৩১/০৮/২০২৬-এ ভট্টর কলেজ, দাঁতনে (অটোনোমাস) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল সংস্কৃত দিবস|

ভট্টর কলেজ, দাঁতন (অটোনোমাস)-এ আজ যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হল সংস্কৃত দিবস। মহাবিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণময় অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সংস্কৃত ভাষার প্রাচীন ঐতিহ্য, বৈজ্ঞানিকতা, সাহিত্যিক সমৃদ্ধি এবং সমকালীন সমাজে তার প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে সকাল ৮:৩০টায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। দাঁতন এলাকার চারটি উচ্চতর বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা, সংস্কৃতানুরাগী ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্টজনেরা এই শোভাযাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. গিরিধারী পণ্ডা মহাশয়, দাঁতন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা, দাঁতন উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও ছাত্রছাত্রীরা, মেনকাপুর কৃষ্ণপ্রসাদ উচ্চতর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও ছাত্রছাত্রীরা, কোটপাদা হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট সংস্কৃতানুরাগী অধ্যাপক ড. অন্নদাশঙ্কর পাহাড়ী। সকলের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রাটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। শোভাযাত্রায় সংস্কৃত ভাষার গুরুত্ব, মহত্ত্ব ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বিভিন্ন বার্তাসমৃদ্ধ পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। সংস্কৃত ভাষার প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে শোভাযাত্রায় একটি সুসজ্জিত ট্যাবলো বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। পাশাপাশি সংস্কৃত ভাষায় পরিবেশিত সুমধুর গান ও শ্লোগান শোভাযাত্রার পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

শোভাযাত্রা শেষে মহাবিদ্যালয়ের সেমিনার হলে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. গিরিধারী পণ্ডা মহাশয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। মহাবিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহযোগিতায় সমগ্র অনুষ্ঠানটি মূলত সংস্কৃত ভাষায় পরিচালিত হয়, যা অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বৈদিক মঙ্গলাচরণ, দীপপ্রজ্বালন মন্ত্র, সরস্বতী বন্দনা এবং ‘বন্দেমাতরম্’ গানের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা সংস্কৃত ভাষায় বক্তব্য ও কথোপকথন উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। এর মাধ্যমে সংস্কৃত ভাষাকে শুধুমাত্র প্রাচীন ঐতিহ্যের ভাষা হিসেবে নয়, বরং আধুনিক জীবন ও সমকালীন বিষয় প্রকাশের উপযোগী একটি জীবন্ত ও সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবে তুলে ধরা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন গান সংস্কৃত ভাষায় পরিবেশন করা হয়। মহাবিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিভিন্ন সংস্কৃত গান পরিবেশন করেন। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. গিরিধারী পণ্ডা মহাশয় সংস্কৃত দিবসের তাৎপর্য, সংস্কৃত ভাষার বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য এবং বর্তমান সময়ে এই ভাষার প্রাসঙ্গিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সংস্কৃত ভাষার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে মহাবিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে সংস্কৃত ভাষার ইতিহাস, প্রাচীন লিপি, সাহিত্য, শাস্ত্র, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংস্কৃত ভাষার নিবিড় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্যের সংস্কৃত নাম ও চিত্রের মাধ্যমে সংস্কৃত শব্দভাণ্ডারের পরিচয়, বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রীর সংস্কৃত নাম এবং সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃতির নানা তথ্যসমৃদ্ধ উপকরণ প্রদর্শিত হয়। বাস্তব জীবনে ব্যবহৃত সামগ্রী ও তার সংস্কৃত নামকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করায় বিদ্যালয়গুলি থেকে আগত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রদর্শনীটি বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করে।

সংস্কৃত দিবস উপলক্ষ্যে মহাবিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের দ্বারা গত শনিবার আয়োজিত সংস্কৃত বিষয়ক প্রতিযোগিতাগুলিতে স্থানাধিকারী ছাত্রছাত্রীদের হাতে আজকের অনুষ্ঠানে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।